বুধবার । ১৩ই মে, ২০২৬ । ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন

ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ইরানের সামরিক শক্তিকে “ধ্বংসপ্রাপ্ত” বলে দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। নতুন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনায় আবারও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে। এসব ঘাঁটি থেকে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক স্থানে ইরান এখনো মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তর করতে পারছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি উৎক্ষেপণও সম্ভব হচ্ছে। কেবল তিনটি ঘাঁটি এখনো সম্পূর্ণ অচল রয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ইরান এখনো তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রেখেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—দুই ধরনের অস্ত্রই রয়েছে।

এছাড়া দেশজুড়ে থাকা ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির সঙ্গে বিরোধ
ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা “চূর্ণবিচূর্ণ” হয়ে গেছে।

মার্চে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি “ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে” এবং দেশটির “সামরিকভাবে আর কিছু অবশিষ্ট নেই”। এপ্রিল মাসে হেগসেথও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযান ইরানের সামরিক শক্তিকে বহু বছরের জন্য অকার্যকর করে দিয়েছে।

তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্য এসব বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

অস্ত্র মজুত সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধে প্রায় ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এক হাজারের বেশি টমাহক এবং ১,৩০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরানের সঙ্গে বর্তমান নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গভীর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে পড়তে হতে পারে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দৈনিক তেল পরিবহন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন